সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর (রহ.) বাবা, নাজমুদ্দীন আইয়ুব (রহ.) তখন তিকরিতের শাসনভারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। বয়স পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিবাহের কোনো উদ্যোগ না দেখে তাঁর ভাই আসাদুদ্দীন শিরকুহ চিন্তিত হয়ে পড়লেন।ভাই আসাদুদ্দীন তাঁকে রাজ্যের প্রভাবশালী পরিবারের মেয়েদের (যেমন মালিক শাহের বা নিযামুল মুলকের কন্যা) বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু নাজমুদ্দীন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তারা তাঁর কাঙ্ক্ষিত পাত্রী নন।
ভাই বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কাঙ্ক্ষিত পাত্রীর বৈশিষ্ট্য কী?"নাজমুদ্দীন আইয়ুবের উত্তর ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ইখলাসে ভরা: "আমি চাই একজন সুশীলা স্ত্রী, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দেবে, যে সন্তানকে সে যথাযথ লালন-পালন করে বড় করবে। বড় হয়ে সে ছেলে হবে একজন দুর্দান্ত ঘোড়সওয়ার, সাহসী মুজাহিদ। আরও বড় হয়ে যে মুসলমানদের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে আনবে।"সেই সময় বায়তুল মুকাদ্দাস ছিল জেরুসালেম থেকে বহু দূরে, ক্রুসেডারদের দখলে। কিন্তু নাজমুদ্দীনের মন পড়ে ছিল আল-আকসার পানে।
তাঁর ভাই আসাদুদ্দীন হতাশ হয়ে বললেন, "তুমি যেমন কনের আশায় বসে আছো, ইহজীবনে তেমনটা পাবে কিনা আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে!" উত্তরে নাজমুদ্দীন দৃঢ়তার সাথে বললেন, "যে ইখলাসের সাথে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে কোনো নিয়ত করে, আল্লাহ তাকে তা দিয়ে দেন।"অপরিচিতের মুখে একই আকাঙ্ক্ষাঘটনার কয়েক দিন পর, নাজমুদ্দীন তিকরিতেরই এক শায়খের মজলিসে বসে আলাপ করছিলেন। এমন সময় এক পর্দানশীন যুবতী এসে শায়খকে সালাম দিলেন। শায়খ সেই যুবতীকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন সে তাঁর পাঠানো পাত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছে—যে জ্ঞানে, গুণে, পদে বা অর্থে কোনো অংশেই কম ছিল না।
যুবতী বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন: "শায়খ! এই পাত্রের মধ্যে আমার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নেই।"শায়খের প্রশ্নে, যুবতী তাঁর কাঙ্ক্ষিত পাত্রের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করলেন, তা শুনে নাজমুদ্দীন আইয়ুবের শ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। যুবতী বললেন: "আমি চাই এমন নেককার পাত্র, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। যে আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দিবে... আরও বড় হয়ে যে মুসলমানদের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে আনবে!"দুইজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের মনের কথা এমন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়া দেখে নাজমুদ্দীন বাকহারা হয়ে গেলেন।
ভাবনার অতল থেকে সম্বিত ফিরে পেয়েই তিনি বলে উঠলেন: "শায়খ! আমি এই পুণ্যবতী মানুষটাকে বিয়ে করতে চাই!"শায়খ প্রথমে ইতস্তত করলেন, কারণ নাজমুদ্দীন ছিলেন তিকরিতের ওয়ালী, আর মেয়েটি ছিল মহল্লার সবচেয়ে গরীব ঘরের সন্তান। কিন্তু নাজমুদ্দীন সব কথা খুলে বললেন। শায়খ সব শুনে অজান্তেই এক আয়াত তিলাওয়াত করলেন:{وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا}
(অর্থাৎ: 'আর তাঁর (আল্লাহর) অন্যতম একটা নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের জন্যে, তোমাদের থেকেই স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো।'—সূরা রূম: ২১)দুইজন মহৎপ্রাণ যুবক-যুবতীর বিবাহ সম্পন্ন হলো। তাঁদের আন্তরিক ইখলাস ও দৃঢ় নিয়তের বরকতেই আল্লাহ তাঁদের দান করলেন এক অনন্য উপহার—ইতিহাসের সেই মহানায়ক, সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রহ.)
ভাই বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কাঙ্ক্ষিত পাত্রীর বৈশিষ্ট্য কী?"নাজমুদ্দীন আইয়ুবের উত্তর ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ইখলাসে ভরা: "আমি চাই একজন সুশীলা স্ত্রী, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দেবে, যে সন্তানকে সে যথাযথ লালন-পালন করে বড় করবে। বড় হয়ে সে ছেলে হবে একজন দুর্দান্ত ঘোড়সওয়ার, সাহসী মুজাহিদ। আরও বড় হয়ে যে মুসলমানদের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে আনবে।"সেই সময় বায়তুল মুকাদ্দাস ছিল জেরুসালেম থেকে বহু দূরে, ক্রুসেডারদের দখলে। কিন্তু নাজমুদ্দীনের মন পড়ে ছিল আল-আকসার পানে।
তাঁর ভাই আসাদুদ্দীন হতাশ হয়ে বললেন, "তুমি যেমন কনের আশায় বসে আছো, ইহজীবনে তেমনটা পাবে কিনা আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে!" উত্তরে নাজমুদ্দীন দৃঢ়তার সাথে বললেন, "যে ইখলাসের সাথে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে কোনো নিয়ত করে, আল্লাহ তাকে তা দিয়ে দেন।"অপরিচিতের মুখে একই আকাঙ্ক্ষাঘটনার কয়েক দিন পর, নাজমুদ্দীন তিকরিতেরই এক শায়খের মজলিসে বসে আলাপ করছিলেন। এমন সময় এক পর্দানশীন যুবতী এসে শায়খকে সালাম দিলেন। শায়খ সেই যুবতীকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন সে তাঁর পাঠানো পাত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছে—যে জ্ঞানে, গুণে, পদে বা অর্থে কোনো অংশেই কম ছিল না।
যুবতী বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন: "শায়খ! এই পাত্রের মধ্যে আমার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নেই।"শায়খের প্রশ্নে, যুবতী তাঁর কাঙ্ক্ষিত পাত্রের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করলেন, তা শুনে নাজমুদ্দীন আইয়ুবের শ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। যুবতী বললেন: "আমি চাই এমন নেককার পাত্র, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। যে আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দিবে... আরও বড় হয়ে যে মুসলমানদের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে আনবে!"দুইজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের মনের কথা এমন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়া দেখে নাজমুদ্দীন বাকহারা হয়ে গেলেন।
ভাবনার অতল থেকে সম্বিত ফিরে পেয়েই তিনি বলে উঠলেন: "শায়খ! আমি এই পুণ্যবতী মানুষটাকে বিয়ে করতে চাই!"শায়খ প্রথমে ইতস্তত করলেন, কারণ নাজমুদ্দীন ছিলেন তিকরিতের ওয়ালী, আর মেয়েটি ছিল মহল্লার সবচেয়ে গরীব ঘরের সন্তান। কিন্তু নাজমুদ্দীন সব কথা খুলে বললেন। শায়খ সব শুনে অজান্তেই এক আয়াত তিলাওয়াত করলেন:{وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا}
(অর্থাৎ: 'আর তাঁর (আল্লাহর) অন্যতম একটা নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের জন্যে, তোমাদের থেকেই স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো।'—সূরা রূম: ২১)দুইজন মহৎপ্রাণ যুবক-যুবতীর বিবাহ সম্পন্ন হলো। তাঁদের আন্তরিক ইখলাস ও দৃঢ় নিয়তের বরকতেই আল্লাহ তাঁদের দান করলেন এক অনন্য উপহার—ইতিহাসের সেই মহানায়ক, সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রহ.)
সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর (রহ.) বাবা, নাজমুদ্দীন আইয়ুব (রহ.) তখন তিকরিতের শাসনভারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। বয়স পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিবাহের কোনো উদ্যোগ না দেখে তাঁর ভাই আসাদুদ্দীন শিরকুহ চিন্তিত হয়ে পড়লেন।ভাই আসাদুদ্দীন তাঁকে রাজ্যের প্রভাবশালী পরিবারের মেয়েদের (যেমন মালিক শাহের বা নিযামুল মুলকের কন্যা) বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু নাজমুদ্দীন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তারা তাঁর কাঙ্ক্ষিত পাত্রী নন।
ভাই বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কাঙ্ক্ষিত পাত্রীর বৈশিষ্ট্য কী?"নাজমুদ্দীন আইয়ুবের উত্তর ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ইখলাসে ভরা: "আমি চাই একজন সুশীলা স্ত্রী, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দেবে, যে সন্তানকে সে যথাযথ লালন-পালন করে বড় করবে। বড় হয়ে সে ছেলে হবে একজন দুর্দান্ত ঘোড়সওয়ার, সাহসী মুজাহিদ। আরও বড় হয়ে যে মুসলমানদের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে আনবে।"সেই সময় বায়তুল মুকাদ্দাস ছিল জেরুসালেম থেকে বহু দূরে, ক্রুসেডারদের দখলে। কিন্তু নাজমুদ্দীনের মন পড়ে ছিল আল-আকসার পানে।
তাঁর ভাই আসাদুদ্দীন হতাশ হয়ে বললেন, "তুমি যেমন কনের আশায় বসে আছো, ইহজীবনে তেমনটা পাবে কিনা আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে!" উত্তরে নাজমুদ্দীন দৃঢ়তার সাথে বললেন, "যে ইখলাসের সাথে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে কোনো নিয়ত করে, আল্লাহ তাকে তা দিয়ে দেন।"অপরিচিতের মুখে একই আকাঙ্ক্ষাঘটনার কয়েক দিন পর, নাজমুদ্দীন তিকরিতেরই এক শায়খের মজলিসে বসে আলাপ করছিলেন। এমন সময় এক পর্দানশীন যুবতী এসে শায়খকে সালাম দিলেন। শায়খ সেই যুবতীকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন সে তাঁর পাঠানো পাত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছে—যে জ্ঞানে, গুণে, পদে বা অর্থে কোনো অংশেই কম ছিল না।
যুবতী বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন: "শায়খ! এই পাত্রের মধ্যে আমার কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নেই।"শায়খের প্রশ্নে, যুবতী তাঁর কাঙ্ক্ষিত পাত্রের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করলেন, তা শুনে নাজমুদ্দীন আইয়ুবের শ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। যুবতী বললেন: "আমি চাই এমন নেককার পাত্র, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। যে আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দিবে... আরও বড় হয়ে যে মুসলমানদের জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরিয়ে আনবে!"দুইজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের মনের কথা এমন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়া দেখে নাজমুদ্দীন বাকহারা হয়ে গেলেন।
ভাবনার অতল থেকে সম্বিত ফিরে পেয়েই তিনি বলে উঠলেন: "শায়খ! আমি এই পুণ্যবতী মানুষটাকে বিয়ে করতে চাই!"শায়খ প্রথমে ইতস্তত করলেন, কারণ নাজমুদ্দীন ছিলেন তিকরিতের ওয়ালী, আর মেয়েটি ছিল মহল্লার সবচেয়ে গরীব ঘরের সন্তান। কিন্তু নাজমুদ্দীন সব কথা খুলে বললেন। শায়খ সব শুনে অজান্তেই এক আয়াত তিলাওয়াত করলেন:{وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا}
(অর্থাৎ: 'আর তাঁর (আল্লাহর) অন্যতম একটা নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের জন্যে, তোমাদের থেকেই স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো।'—সূরা রূম: ২১)দুইজন মহৎপ্রাণ যুবক-যুবতীর বিবাহ সম্পন্ন হলো। তাঁদের আন্তরিক ইখলাস ও দৃঢ় নিয়তের বরকতেই আল্লাহ তাঁদের দান করলেন এক অনন্য উপহার—ইতিহাসের সেই মহানায়ক, সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রহ.)
·683 Vue
·0 Aperçu